Skip to main content

বাঁচাও (প্রথম পর্ব)

জাতীয় পত্রিকার কার্টুনিস্ট পদে চাকরি পাবার জন্য গত এক বছর ধরে চেষ্টা করছি। বাড়িতে বসে নানান রকম কার্টুন প্র্যাকটিস করেছি, অ্যানিমে এঁকেছি, কিন্তু ইন্টারভিউ দেয়ার সাহস পাইনি। এবার ভাবলাম দেরি না করে একটা ইন্টারভিউ দিয়েই ফেলি। সন্ধ্যায় একটা অ্যানিমে সিরিজ দেখছিলাম। ভাবলাম এনিমের মূল ক্যারেক্টার সাতোরু ফুজিনুমাকে আঁকবো। আঁকতে শুরু করেছি এর মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে গেল। আজকাল বিদ্যুৎ আর বৃষ্টি কখন আসে কখন যায় তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। টর্চ জ্বালিয়ে কাজ চালাতে হলো। কালকে সকাল এগারোটায় দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকার মঙ্গলবারের ম্যাগাজিনের জন্য কার্টুনিস্টদের ডেকেছে। সেটাতেই ইন্টারভিউ দেবো ভেবেছি।

এমনিতে আমার চেহারা ভেজা কাকের মতো। তাই সকাল সকাল উঠে পরিচ্ছন্ন হয়ে সুন্দর জামাকাপড় পরে নিলাম। সোয়া দশটায় বেরিয়ে একটা রিকশা নিয়ে রওনা হলাম পত্রিকার হেডকোয়াটারের দিকে। পনের মিনিটেই পৌঁছে গেলাম। রিকশা ভাড়া দিয়ে চলে গেলাম দোতলায়। দেখি প্রায় এক কুড়ি লোক সারি দেয়া চেয়ারে বসে আছে। বুঝে গেলাম, তারা আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হবে। আমার পালা আসতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লেগে গেল। পিওনগোছের একটা লোক আমার নাম ধরে ডাকলো। ভারী দরজা খুলে ঢুকে দেখলাম মস্ত বড় টেবিলের ওপাশে তিনজন ভারিক্কি চেহারার মানুষ বসা। তিনজনের মধ্যে একজন নারী। সদ্য আঁকা কয়েকটা কার্টুন দেখালাম। দুইজন প্রশংসা করলেও মাঝেরজন চোখ সরু করে বললেন, আমার ধারণা কিছুদিন পরে তুমি আরো ভালো আঁকতে পারবে। বুঝলাম, এ চাকরি আমার কপালে নেই।

মনকে সান্ত্বনা দিয়ে কাজের দিকে রওনা হলাম। চব্বিশ বছরের যুবকের কিছু একটা করা উচিৎ। তাই আমি একটা পিৎজা রেস্তোঁরায় কাজ নিয়েছি। পড়াশোনার জন্য ঢাকা ছেড়ে খুলনায় এসেছিলাম। পড়াশোনার খরচটা চালানোর জন্য হলেও কিছু একটা করা উচিৎ। আমাদের পিৎজা রেস্তোঁরাটা খুব জনপ্রিয়। আমি সেখানকার ডেলিভারি বয়। আমার মতো আরো তিনজন ডেলিভারি বয় আছে - মিরাজ, নিশিতা ও ফয়সাল। এর মধ্যে নিশিতা ভয়ঙ্কর চঞ্চল। একদম কিশোরীদের মতো।

রেস্তোরায় গিয়ে দেখি আমার নামে তিনটে হোম ডেলিভারি বসে আছে। হোম ডেলিভারিতে যেতে আমার একদম ভালো লাগে না। ভদ্রলোকেরা মনে করে ডেলিভারি বয় হলো পথের ভিখারি। যা তা ব্যবহার করে। তবে অফিসের লোকজন বেশ ভালো। আমি তাই অফিসের ডেলিভারিগুলো দিতে পছন্দ করি। মেজাজ খারাপ করেই আশি সিসি’র মোটরবাইকটা নিয়ে রওনা হলাম। তেঁতুলতলা মোড়টা ছাড়িয়েই মনে হতে লাগলো সামনে কিছু একটা খারাপ ঘটনা ঘটতে চলেছে। শিববাড়ি মোড়ে পৌঁছে তাকিয়ে দেখি স্কুলড্রেস পরে একটা শিশু সড়কদ্বীপ থেকে সিটি সেন্টারের দিকে রাস্তা পার হচ্ছে, আর তখনই আমার পেছন দিক থেকে একটা ট্রাক উর্ধশ্বাসে ওভারটেক করে এগোলো সেদিকে। আমি আতঙ্কে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। আর দেখলাম আমার চোখের সামনে একটা ঘড়ির কাঁটা পেছনের দিকে ঘুরছে। কী করে যেন কী হয়ে গেল!

আমি তেঁতুলতলা মোড় থেকে বাইকের স্পিড বাড়িয়ে দিলাম। শিববাড়ি মোড়ের আগেই ট্রাকটাকে আসতে দেখলাম। দূর থেকে ডানহাত নেড়ে শিশুটাকে পার না হতে বললাম। কিন্তু সে হয়তো স্কুলের রাইম মুখস্ত করতে করতেই রাস্তায় হাঁটছে। ওদিকে ট্রাকটারও গতি কমছে না। মুহূর্তের মধ্যে পেছনে তাকিয়ে দেখি ড্রাইভারের মাথা ঝুলে আছে স্টিয়ারিং হুইলের উপর। চিৎকার করলাম, কোনো কাজ হলো না। আরেকবার চেষ্টা করার সময় মনে হলো, বেশ দেরি হয়ে গেছে। এখনও আমি ট্রাকের সামনে কিন্তু কিছুই করার নেই। কিছু না ভেবেই বাইকের স্টিয়ারিং বাঁদিকে নব্বই ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিলাম। প্রচণ্ড জোরে ধাক্কার শব্দ শুনলাম। তারপর কী হলো কিছু মনে নেই। চোখ খুলে দেখি ... (চলবে)

ঋষাৎ হাসান : ৫ জুলাই ২০২০

Comments

Popular posts from this blog

বাঁচাও|Episode 5|Investigation| By Wrishat Hasan

কাটা ছেড়ার  দাগ বিভার পায়ে কী করে আসলো। এর মানে হয়তো তার পড়ে গিয়ে আঁচড় লেগেছে নয়তো তাকে মারধর করা হয়েছে। দুটোর মধ্যে একটা হলেও চিন্তার বিষয় খুঁজে পাচ্ছি না। দুষ্টুমি করলেতো আমার মাও উত্তম অধম দেয় আর পড়ে গেলে তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। স্কুলের ঘন্টা পড়ে গেলো। বন্ধুদের সাথে গল্প করে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। রাস্তায় একটা পাটকেলকে ফুটবল বানিয়ে লাথি দিতে দিতে উত্তেজিত হয়ে এমন জোরে লাথি দিলাম যে পাটকেল টি গিয়ে একটা কুকুরের গায়ে পড়লো। মনের মধ্যে ভয়ে একটাই কথা "ইটটাকে  ওখানেই পড়তে হলো "। স্থানিয়  ভাষায় যাকে  বলে আইজো দৈড় কাইলো দৈড় দিলাম। দৌড়ে বট  গাছের কাছে যেয়ে পিছনে ফিরে সস্থির চোখে দেখলাম কুকুরটি আর পিছু নিচ্ছে না। কিন্তু কে জানতো বিভা সেখান থেকেই বাসায় যাচ্ছিলো। আমাকে দেখে পুরোই গম্ভীর ভাবে হাই বলে। মনে মনে ভাবছি এইভাবে কেউ কাউকে হাই বলে। কিন্তু এটা  ভুল করে মুখেই বলে ফেললাম। বিভা দেখলাম কিছু মনে না করেই ওর বাড়ির দিকে রওনা হলো। বাড়ি ফিরে ডিনার করার সময় মনে আসলো "বিভার অপহরণের দিন কোনটা"। ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলাম। এবারো  বিভার পেছন...

বাঁচাও|Episode 4|11 years old| By Wrishat Hasan|

বাড়ি ফিরে দরজা খুলে দেখি মা অচেতন হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছে এবং তার পিঠে চুরি ঢোকানো তার চারপাশে রক্ত। মায়ের পিঠে হাত দিয়ে উল্টাতে গিয়ে আমার হাতে রক্ত লেগে গেলো।মাকে মৃত দেখে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের বাইরে চলে এলাম। তখনি প্রতিবেশী একজন মহিলা মাকে ডাকতে এসে দেখে আমার হাতে রক্ত। সে চিৎকার করে আমাকে খুনি ও ডাকাত বলে ডাকতে লাগে। সে দৌড়ে গিয়ে পুলিশকে ফোন দেয়। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে আমার থেকে বার বার পালিয়ে যাচ্ছিলো। তখনি পুলিশ আমাকে ঘিরে ফেলে। আমি কিছু না করতে পেরে পিছনের দিকে দৌড় দিলাম। তখনি একজন পুলিশ আমার দিকে গুলি করলো, গুলি তা মাথায় লাগবার আগেই সেই ঘড়ি হাজির। কিন্তু এবার আমি চলে এলাম একেবারে ১৩ বছর আগে। যখন আমার বয়স ১১। নিজের বয়স ১১ হলেও মনের মধ্যে আমি ২৪ বছর বয়সি। প্রশ্ন জগতে লাগলো আমি ১৩ বছর আগে কেন চলে এলাম। এর সাথে পুলিশ ও মায়ের খুন হবার সম্পর্ক কী ? তখনি মনে আসলো সেই টুপি ও কোর্ট পরা লোক, মায়ের ড্রয়ারে তার ছবি এবং অর্ণ, বিভা ও বিদিশার অপহরনণ এবং খুন। আমি হয়তো ১৩ বছর আগে ফিরে  এসেছি এদের বাঁচানোর জন্য। প্রথমেই মনে আসলো অর্ণ ও বিভা আমাদের স্কুলে পড়ে। কিন্ত বিদিশা পরে আরেক স্কুলে। এই...

বাঁচাও|Episode 3|The Murder Thoughts| By Wrishat Hasan

এটা বুঝে গেলাম যে যখন কোনো কিছু খারাপ হতে চলে তখন আমি ৫-১০ মিনিট অতীতে চলে আসি। এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে বাড়ি পৌছালাম। তখন সাড়ে ১০টা বেজে গেছে। এখন রেস্তোরায় যেতে হবে নাহলে একদিন না কাজ করার জন্য বসের কাছে কথা শুনতে হবে। রেস্তোরায় আজ রিয়াজ নেই। ফয়সাল কে জিজ্ঞাস করলে সে বললো শরিফের  বাবা অসুস্থ। আমি নিশিতা ও ফয়সালকে কাজ শেষ করে আমার সাথে শরিফের  বাবাকে দেখতে যেতে বললাম। নিশিতা রাজি হলেও ফয়সাল আজ ওভারটাইম করবে তাই সে যেতে পারবে না। আমি বললাম "ঠিক আছে তাহলে আমি আর নিশিতাই যাবো"। কাজ শেষে রাত  ৮ টার দিকে সিটি হাসপাতালের দিকে রওনা হলাম। যেতে যেতে ৮ টা ১৫ বেজে গেছে, হাসপাতালে যেয়ে দেখি শরিফের  বাবাকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। শুনলাম তার অবস্থা আগের থেকে ভালো। রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়ায় তার এই অবস্থা। শরিফের সাথে গল্প করতে করতে রাত  ১০ টা ৩০ বেজে গেছে। যাওয়ার সময় হয়েছে বলে বিদায় জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেলাম। রাস্তায় কোনো রিকশা বা যানবাহন নাই। থাকবেই বা কেন  শহরে রাত ১০ টার পর কোনো যানবাহন চলে না। নির্জন রাস্তায় আমি আর নিশিতা হাটতে হাটতে বাসায় যাচ্ছি...