Skip to main content

বাঁচাও|Episode 2|The Realization and The Saving| By Wrishat Hasan

চোখ খুলে দেখি আমার সামনে নিশিতা এবং ফয়সাল বসা। পরিবেশ দেখে বুঝে গেছি আমি হাসপাতালে। প্রথমে মনে এলো বাচ্চাটার কথা। কিছু বলার আগে নিশিতা বলে উঠলো "কেমন ভাবেইনা বাচ্চাটাকে বাঁচালে একেবারে সুপারহিরো। কথাটি শুনে মনে মনে হেসে বললাম "আমি নাকি সুপারহিরো মেয়েটা পাগল বটে"। এমনি কিছু কথাবার্তার পর ডাক্তার এসে বলে আমাকে আজ রিলিজ দেয়া হবে। রাত বেজে ৮ টা বাড়ি গিয়ে দেখি দরজা ভেতর থেকে লক করা। আশ্চর্যের সাথে দরজায় নক করলাম। ভেতর থেকে আওয়াজ এলো "আসছি "। কণ্ঠ শুনে বুঝে গেছে মা। দরজা খুললে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করি সে এখানে কি করছে। উত্তর আসে "আজ দুপুর ২ টায় ট্রেন ধরে রওনা দিয়েছি ছেলে মরার আগে একবার দেখে নেওয়া ভালো" বলে মা কতগুলো কোকের ক্যান নিয়ে খাটে  বসে টিভি দেখতে বসে গেলো। মা এরকমই তাই এটা অতিস্বাভাবিক। ডিনার করে দ্বিতীয় রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুতেই ঘুম আসছিলো না। বার বার একই কথা মনে পড়ে  ঘড়ির কাঁটা, টাইমের পেছনে চলে যাওয়া, কিছু তো একটা প্যাটার্ন আছে এতে। কোনোমতে ঘুমোলাম। সকাল ৯ টা আজ মার্কেট যাবার কথা মায়ের সাথে। নাস্তা করে রওনা হলাম মৌ সুপারমার্কেটের দিকে। বাজার করে বের হবার সময় আবার সেই ঘড়ি কিন্ত এবার আমি চলে এলাম ১০ মিনিট আগে। কিছুই বুঝতে পারছি না কী হবে এবং কী হচ্ছে। পাশে একটা বাচ্চা বেলুন নিয়ে খেলছে তার সামনে তাকাতেই দেখি একজন সাদা কোর্ট ও টুপি পরা লোক পিস্তল নিয়ে মায়ের দিকে টার্গেট করছে। তখনি আমি চিৎকার করে সেই লোকটির দিকে তেড়ে গেলাম কিন্ত নিমিষের মধ্যে লোকটি কোথায় যেন উবে গেলো। আবারো সেই ঘড়ি কিন্তু এবার আমি এলাম বর্তমানে। মনে হলো হয়তো আমি ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করে ফেলেছি , হয়তো বিপদ কেটে গেছে। তখনি মনে পড়লো আমি ওই লোকটিকে আগে কোথাও দেখেছি। হ্যা, ১৩ বছর আগে, আমার বয়স যখন ১১, আমার স্কুল থেকে ৩ জন মেয়েকে অপহরণ করা হয়। তাদের ৩ জনের লাশ ৭ দিন পর  পাওয়া যায়। মা তখন পুলিশের ডিটেক্টিভ ছিলেন। তার ড্রয়ারে আমি ওই লোকের ছবি দেখেছি। কিন্ত ওটা তো ১৩ বছর আগের কথা। ওই লোক এখন আসবে কোনো আমার মা কে খুন করতে।.............................(To be continued)
Episode 3 Teaser : মায়ের খুন হবার কল্পনা 

Comments

Popular posts from this blog

জারুল (Lagerstroemia Speciosa)

জারুল (Lagerstroemia Speciosa) Photo by: Wrishat Hasan English Name   : giant crepe-myrtle, Queen's crepe-myrtle, banabá plant Bengali Name   : জারুল, বনজারুল, কাঁটাজারুল, বসুঁয়া জারুল, পানিজারুল Scientific Name: Lagerstroemia speciosa Kingdom           :Plantae Family              : Lythraceae  Genus               :Lagerstromia Distribution     :South East Asia,Philippines,India,Bangladesh Defination in Bangla জারুল ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ । বাংলাদেশ , ভারত ছাড়াও চীন , মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে জারুলের সন্ধান মেলে । নিম্নাঞ্চলের জলাভূমিতে এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তবে শুকনো এলাকাতেও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় না। মাঝারি আকৃতির এই বৃক্ষটি শাখা-প্রশাখাময়। এর লম্বাটে পাতাগুলো পত্রদণ্ডের বিপরীতে সাজানো থাকে। এই পাতাঝরা বৃক্ষ শীতকালে পত্রশূণ্য অবস্থায় থাকে। বসন্তে নতুন গাঢ় সবুজ পাতা গজায়। গ্রীষ্মে...

বাঁচাও|Episode 5|Investigation| By Wrishat Hasan

কাটা ছেড়ার  দাগ বিভার পায়ে কী করে আসলো। এর মানে হয়তো তার পড়ে গিয়ে আঁচড় লেগেছে নয়তো তাকে মারধর করা হয়েছে। দুটোর মধ্যে একটা হলেও চিন্তার বিষয় খুঁজে পাচ্ছি না। দুষ্টুমি করলেতো আমার মাও উত্তম অধম দেয় আর পড়ে গেলে তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। স্কুলের ঘন্টা পড়ে গেলো। বন্ধুদের সাথে গল্প করে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। রাস্তায় একটা পাটকেলকে ফুটবল বানিয়ে লাথি দিতে দিতে উত্তেজিত হয়ে এমন জোরে লাথি দিলাম যে পাটকেল টি গিয়ে একটা কুকুরের গায়ে পড়লো। মনের মধ্যে ভয়ে একটাই কথা "ইটটাকে  ওখানেই পড়তে হলো "। স্থানিয়  ভাষায় যাকে  বলে আইজো দৈড় কাইলো দৈড় দিলাম। দৌড়ে বট  গাছের কাছে যেয়ে পিছনে ফিরে সস্থির চোখে দেখলাম কুকুরটি আর পিছু নিচ্ছে না। কিন্তু কে জানতো বিভা সেখান থেকেই বাসায় যাচ্ছিলো। আমাকে দেখে পুরোই গম্ভীর ভাবে হাই বলে। মনে মনে ভাবছি এইভাবে কেউ কাউকে হাই বলে। কিন্তু এটা  ভুল করে মুখেই বলে ফেললাম। বিভা দেখলাম কিছু মনে না করেই ওর বাড়ির দিকে রওনা হলো। বাড়ি ফিরে ডিনার করার সময় মনে আসলো "বিভার অপহরণের দিন কোনটা"। ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলাম। এবারো  বিভার পেছন...

Raees (রইস)

রইস শব্দটার বাংলা অর্থ 'অভিজাত'। অভিজাতরা সাধারণত অপরাধ করে, আর তাদের অপরাধ কখনোই অপরাধ বলে গণ্য হয় না। আর হিন্দি বা বাংলা সিনেমায় তো অভিজাতেরা ভুল (?) বুঝতে পেরে ক্ষমা চাইলেই চলে। তার ওপর সেই 'রইস' যদি হয় সিনেমার নায়ক, তবে তো কথাই নেই। তারা নিজেরাই আত্মসমর্পণ করে, এক দৃশ্য পরেই দেখা যায় নায়ক জেল থেকে বেরিয়ে আসছে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নায়িকাসহ পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়স্বজন। একজন কমেডিয়ানও থাকবে। নায়ক-নায়িকা মিলবে, সবাই হাসিহাসি মুখ করে দাঁড়াবে, আর সঙ্গে সঙ্গে 'হ্যাপি এন্ডিং' হয়ে যাবে। অন্য রকমও হয়। যেমন শ্যুট আউট অ্যাট ওয়াডেলা, আন্স আপোন আ টাইম ইন মুম্বাই বা গ্যাংস অব ওয়াসেপুর। ভারতীয় উপমহাদেশে এমন সিনেমা নিশ্চয়ই আরো কতক আছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই ক'টাই মনে পড়লো। এমনি আরেকটা সিনেমাই 'রইস'। গ্যাংস অব ওয়াসেপুর-এর মতো উচ্চতারে বাঁধা নয় সিনেমাটি, কিন্তু শেষের সমীকরণ মানুষের মনে এক ধরনের অাশাবাদ জন্ম দেয়। তবে নায়ককে 'রবিনহুড' বা 'দস্যু বনহুর' ধরনের ইতিবাচক ইমেজ দেয়ার চেষ্টা লক্ষণীয়। দস্যু বনহুরের মতোই রইসও অবৈধ প...